'আর্থার' - অ্যালিসন হিউজের একটি কবিতা
আমার সামনে এই যে কুঁজো হয়ে বসে থাকা শীর্ণকায় মানুষটি,
একসময় তিনি ছিলেন অত্যন্ত গর্বিত ও দীর্ঘকায়।
সে তার যন্ত্রণা লুকায় মুখ বিকৃত করে আর দাঁত বের করে হাসে,
ভেতরে তার কঙ্কালের কী অবস্থা তা কেউ জানে না।
রোগে তার বিকৃত শরীরটা মোচড়াতে থাকে,
রোগটা কোনো ভদ্রতা, ধন্যবাদ বা অনুরোধ ছাড়াই সবকিছু ধ্বংস করে দেয়।
প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আর অস্থিসন্ধি যেন দু'টুকরো হয়ে গেছে,
ফুলে গিয়ে রঙিন ছোপ নিয়ে গিঁটগুলো বড় বড় হয়ে গেছে।
সহজতম কাজগুলো করতেও তার সাহায্য লাগে,
খাওয়া, পোশাক পরা, জুতার ফিতা বাঁধা—সবকিছুতেই।
বাতব্যথার যন্ত্রণা তাকে দিন দিন আঁকড়ে ধরে,
কিন্তু সবসময় এমনটা ছিল না।
ছেলেবেলায় সে গাছে চড়ত আর খুব মজা করত,
আর ভরদুপুরের রোদে খেলাধুলা করত।
সে তার সন্তান আর স্ত্রীর জন্য সাধ্যমতো সবকিছু করত,
তাদের জন্য এক সুন্দর ভবিষ্যতের ব্যবস্থা করে দিত।
কিন্তু ভোরের আলোয় যে মানুষটা এত মহিমান্বিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকত,
সে আজ শুকিয়ে, ম্লান হয়ে, প্রায় হারিয়ে গেছে।
তার হৃৎস্পন্দন ধীর হয়ে গেছে, কিডনিগুলো ছোট হয়ে গেছে,
এই সবকিছুই হয়েছে বাত আর চিকিৎসার জঞ্জালের কারণে।
তবুও এত যন্ত্রণার মাঝেও সে কান্নাকাটি করে না,
আর জিজ্ঞেস করলে মুখ বিকৃত করে উত্তর দেয়… ‘আমি ভালো আছি!’
– অ্যালিসন হিউজেস